সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম করেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা , দলের নামে অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ।

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৯৫ ভিউ টাইম

 মোঃ মজিবর রহমান শেখ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি,,ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ৭নং চিলারং ইউনিয়ন এর চৌরঙ্গী বাজারে জহিরুল ইসলাম( ৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছেন । হবিবর রহমান এর ছেলে ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম এর নির্দেশে দেবারু এর ছেলে বাবলু সহ তার সঙ্গীরা। ভিকটিম জহিরুল ইসলামের পিতা মোহাম্মদ নাজিরউদ্দিন জানায় ,আমার ছেলে মোটরসাইকেল ক্রয় করার জন্য তার শ্বশুরের নিকট হতে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে গত ২ আগস্ট রবিবার রাত ৮ টার দিকে বাসায় ফেরার পথে চৌরঙ্গী বাজারের উত্তর পাশে পৌঁছানোমাত্র বাবলু, দবিরুল, খতিবর সহ ৭/৮ জন অজ্ঞাত যুবক ৮০ হাজার টাকা ডাকাতি করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পথরোধ করে। আমার ছেলে তাদের হাত থেকে বাচার উদ্দেশ্যে দৌড়ে পালাতে চাইলে ডাকাতরা তাকে আটকে ফেলে তাদের হাতে থাকা খুর দিয়ে হাত,বুক ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। যার ফলে প্রচণ্ড বেগে রক্ত ঝরতে থাকে। প্রাণে বাঁচার জন্য আমার পুত্র চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে যায় এ সময় ডাকাতরা তার সঙ্গে থাকা ৮০হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আমার সন্তানের চিৎকার-চেঁচামেচিতে এগিয়ে আসলে তারা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আমার সন্তান মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে,ডাক্তার খুর এর আঘাত গুলিতে ১৩ টি সেলাই করেছে। অপরদিকে মুঠোফোনে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা দুওসুও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দবিরুল ইসলাম এর কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, যে আমি তার কাছে কিছু টাকা পেতাম যার কারণে আমি তার পথরোধ করি। আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলাকালীন সময়ে আমার অনুসারীরা তাকে আঘাত করে। যখম করার কথাও তিনি স্বীকার করেন। দবিরুল বলেন , যে আমারা পেশাগত নাপিত হওয়ার কারণে আমার ভাইদের কাছে খুর ছিল যা দিয়ে রক্তাক্ত জখম হতে পারে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে কেন হাসপাতালে যেতে বাধাা দেয়া হলো প্রশ্ন করলে দবিরুল কোন উত্তর দিতে পারেনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আক্তারুল ইসলাম বলেন ,যে বাবলুর নির্দেশে দবিরুল ও তার ভাই সহ সাত-আটজন খুর দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে যায়। আমরা চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে সেখানেও তারা হামলা চালায়। ফজলুল হক জানান, যে বাবলু নামের ছেলেটি সারাদিন কিছু করে না, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করেই সে সংসার চালায়। থানায় প্রায় ৬/৭ টি মামলা রয়েছে তার নামে। শুধু তাই নয় জমি দখলসহ ভাড়াটিয়া মাস্তান হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় মারামারি করতে যাওয়া তার পেশায় পরিণত হয়েছে।কিছুদিন পূর্বে ও ভারতে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়লে সেখানে ছয় মাস জেল খেটে সম্প্রতি এলাকায় এসে আবারো বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে সে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে, কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় বাজার কমিটি , ৭ নং চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রতিন চন্দ্র বর্মন, রমজান আলী স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ বাবলুর কাছ থেকে চুরি হয়ে যাওয়া একটি টেলিভিশন উদ্ধার করে , এবং সালিশের মাধ্যমে আর কোন দিন চুরি করবে না মর্মে এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়। উক্ত সালিশে নেশা, ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ এর কথাও অস্বীকার করে সে। স্থানীয়় আওয়ামীলীগ নেতাদের মতে তারা মূলত আদর্শগত আওয়ামীলীগ রাজনীতি করে না,। বিভিন্ন অপকর্ম করার জন্য ঢাল হিসাবে আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে থাকে। এত অপকর্মের পরও আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বীরদর্পে চলাফেরা করাই স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে ক্ষতি করবে কিংবা বাবলুর রোষানলে পড়তে হবে এই ভয়ে অনেকেই আর তার বিরুদ্ধে কথাও বলতেে চায় না। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি তবে এসআই ফনী ভূষ ণ ঘটনার তদন্ত করতে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

দয়াকরে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরী আরো খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

Developed By VorerSokal.Com
newspapar2580417888