বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দুপচাঁচিয়ায় ভাগ্নিকে ধ র্ষণের অ ভিযোগে খালু গ্রে ফতার উপজেলা নির্বাচন ২০২৪ নোয়াখালী,বেগমগঞ্জ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও শহীদ কামারুজ্জামানের সমাধীতে আরসিআরইউ’র শ্রদ্ধা বগুড়ার সেরা ফটোগ্রাফার হিসেবে আইফোন জিতলেন আরিফ শেখ দুপচাঁচিয়ায় জোহাল মাটাইয়ে ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের উদ্বোধন রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় গৌরবদীপ্ত বিজয় দিবস বর্ণাঢ্য আয়োজনে বগুড়ায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন ফাঁপোর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মেহেদী হাসান বগুড়ায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ক্যান্সার সেন্টার পরিদর্শন দুপচাঁচিয়ায় বিউটি পার্লারে অভিযান জরিমানা

রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় গৌরবদীপ্ত বিজয় দিবস

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৬৭ ভিউ টাইম

ডিসেম্বর মাস বাঙালি জাতির গৌরব ও আনন্দের মাস। ত্রিশ লক্ষ তাজা প্রাণ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম ও অগণিত মুক্তিযোদ্ধার আত্নত্যাগের বিনিময় অর্জিত মহান বিজয়। এই মাসেই পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। গৌরবদীপ্ত এই বিজয় নিয়ে রাজশাহী কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাঁদের ভাবনা, অনুভূতি ও প্রত্যাশার কথা।

আনন্দ ও গৌরবের মাস ডিসেম্বর

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। দীর্ঘকালের পরাধীনতার গ্লানি আর বিজাতীয় শাসন-শোষণের জাঁতাকল থেকে মুক্তি ছিনিয়ে এনে বাঙালির আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল বাংলাদেশ। বাঙালির জাতীয় জীবনের ইতিহাসে উজ্জ্বল, ভাস্বর এই দিন। প্রতিবার বছর ঘুরে বাঙ্গালির বিজয়ের দিন আসে, আসে বাংলাদেশের জন্মদিন।দেশে যেমন পালন করে তেমনি নানা আয়োজনে বিদেশে পালন করা হয় বাংলাদেশের জন্মদিন। এই দিনটি আমাদের অনেক স্মরণীয়,অনেক আবেগময় ও আনন্দের । ১৬ডিসেম্বর দিনটি শুধু আমাদের বিজয়ের দিন নয়, এটি আমাদের চেতনার জাগরণের দিন। তাই এই দিনে প্রতিটি বাঙালি নতুন করে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় দেশকে গড়তে- বিশ্বসভায় সামনের সারিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে।

বুশরা আজমী, অনার্স প্রথম বর্ষ, সমাজকর্ম বিভাগ ।

বিজয় নিশান উড়িয়ে বিজয় এসেছিলো ৭১ এ

বাঙালি দুর্বার, বাঙালি নির্ভীক, বাঙালি মাথা নত করতে জানে না তার প্রমাণ পেয়েছিল পাকিস্তানীরা ১৯৭১ সালে। বাঙালি জাতির শোষণ এর ইতিহাস বহু পুরনো। তবে হাজার বছর ধরে শোষিত হতে হতে তারা বজ্রকঠিন হুংকার দিয়ে উঠেছিলো ১৯৭১ সালে। যে হুংকার এ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কেপেঁ উঠেছিলো। বাঙালি বিনয়ী, নম্র,ভদ্র,আরাম প্রিয় হলেও যে তারা প্রতিবাদ করতে পারে,অন্যায় রুখে দিতে পারে,প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে তার প্রমাণ হয়েছিলো সেই ১৯৭১ সালেই।পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অন্যায় অত্যাচার এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলো।শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সসস্ত্র যুদ্ধের পর অর্জিত হলো স্বাধীনতা। বাঙালির এ লড়াইটা শুধুু নয় মাসের না।১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তানীদের অত্যাচার শুরু হয়।সেই সময় থেকে তারা বিভিন্ন অন্যায় দাবি চাপিয়ে দিতে থাকে বাঙালিদের উপর।তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে প্রাণ দিতে হয় বাঙালিদের। ইতিহাসে আগে কখনও কোন জাতি ভাষার দাবিতে প্রাণ দেয়নি।পাকিস্তানীদের অন্যায় দাবির বিরুদ্ধে প্রথম বড় আন্দোলন এটাই।ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং সবশেষে মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আজকের এই স্বাধীনতা। তবে বর্তমান প্রজন্ম এই অতীত ইতিহাস ভুলে যেতে বসেছে।তারা বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস,শহীদ দিবসের পার্থক্য বুঝে না।জানে না কোনদিন কী হয়েছিল।এছাড়াও বর্তমানে স্বাধীনতা দিবস,শহীদ দিবস,বিজয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে শুধুমাত্র একটা র্যালি ও শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ছাড়া তেমন কোন কর্মসূচি দেখা যায় না।মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে জানানোর জন্য তেমন কোন আয়োজনের দেখা মেলে না।এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব বেশি চলচিত্র, ডকুমেন্টারি, নাটক তৈরি করা হয় না।ফলে আমাদের গৌরবের সবচেয়ে বড় একটা ইতিহাস তরুণ প্রজন্ম জানতে পারছে না। আমাদের উচিত তরুন প্রজন্মের জন্য এমন কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা যেগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের পূর্বের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।

আল সাকিব, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ ।

গৌরবদীপ্ত মহান বিজয় দিবস

হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি তার আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও স্বাধীন পতাকা পেয়েছিল যে মাসে, তার নাম ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধুর এক শোকগাথার মাসও এই ডিসেম্বর। এই বিজয় আমাদের সেই শিক্ষা দেয় যার মাধ্যমে আমরা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে শিখি, সন্মান প্রদর্শন করতে শিখি। ধন্য সেই সাহসী যোদ্ধাদের যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। যে বিজয় লাখো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত, সেটা ধরে রাখার কর্তব্য সবার। আমাদের সবার উচিত আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

তামিম তুলি , অনার্স প্রথম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ ।

দয়াকরে নিউজটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরী আরো খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

Developed By VorerSokal.Com
newspapar2580417888